Wärtsilä RT-flex96C: মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন প্রকৌশলের এক বিস্ময়!
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী ইন্টারনাল কম্বাশন ডিজেল মেরিন ইঞ্জিন হচ্ছে Wärtsilä RT-flex96C। এটি মূলত ডিজাইন ও তৈরি করে ফিনল্যান্ডের Wärtsilä কোম্পানি।
২০০৬ সালে এটি প্রথম সার্ভিসে আসার পর থেকে আজ পর্যন্ত সামগ্রিক আকার এবং ওজনের দিক থেকে এই Wärtsilä RT-flex96C ডিজেল মেরিন ইঞ্জিনটিকে অন্য কোনো মেরিন ইঞ্জিন ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।
আসলে পুরো ২,৩০০ টনেরও বেশি ওজনের এই দানবীয় ইঞ্জিনটির আকার যেকোনো সাধারণ মানুষকে চমকে দেবে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭ মিটার এবং উচ্চতা ১৩.৫ মিটার, যা কিনা একটি চারতলা ভবনের সমান হতে পারে।
এই ইঞ্জিনের সর্বশেষ ১৪-সিলিন্ডারের সংস্করণটি সর্বোচ্চ প্রায় ১,১৪,৮০০ হর্সপাওয়ার (বা প্রায় ৮৫.৬ মেগাওয়াট) পর্যন্ত শক্তি উৎপাদন করতে পারে, যেখানে ১ মেকানিক্যাল হর্সপাওয়ার সমান প্রায় ৭৪৫.৭ ওয়াট হিসাব করা হয়।
ডিজেলচালিত এই Wärtsilä RT-flex96C ইঞ্জিনের একেকটি পিস্টনের ওজনই প্রায় ৫.৫ টন এবং উচ্চতা প্রায় ৬ মিটার বা প্রায় ২০ ফুট। আর এর পুরো ক্র্যাংকশ্যাফ্টটির ওজন হতে পারে প্রায় ৩০০ টন পর্যন্ত।
আর সাগরের বুকে বিশাল আকারের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর প্রপেলার ঘোরানোর জন্য এর ধীর ঘূর্ণন গতি, যা প্রতি মিনিটে মাত্র ৯২ থেকে ১০২ বার (RPM), যা একদম নিখুঁত হিসেবে কাজ করে।
এ ছাড়া আধুনিক কমন-রেল ফুয়েল ইনজেকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এই ইঞ্জিনটি জ্বালানি সাশ্রয় করার পাশাপাশি ক্ষতিকর কার্বন নির্গমনের হারও অনেক কমিয়ে দিয়েছে।
গ্লোবাল মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, এই মেগা ইঞ্জিনের আনুমানিক মূল্য হতে পারে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকার হিসেবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।
বর্তমানে গ্লোবাল মেরিন ইন্ডাস্ট্রি পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকলেও, যান্ত্রিক প্রকৌশলের এক অনন্য ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে এই ডিজেল ইঞ্জিনটি মেরিটাইম জগতে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
(তথ্যসূত্র: ইন্টারনেটে প্রাপ্ত উন্মুক্ত উৎস)
তথ্য সংগ্রহে: সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক, বাংলাদেশ।
Comments
Post a Comment