ভবিষ্যতের এক অভাবনীয় ৫ডি অপটিক্যাল ডেটা স্টোরেজ টেকনোলজি


ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক ২০১৬ সালের দিকে লাইফ-টাইম ডিজিটাল ডেটা স্টোরেজ টেকনোলজির এক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তারা মূলত গবেষণাগারে কোয়ার্টজ গ্লাসের ন্যানোস্ট্রাকচারে একটি উচ্চ প্রযুক্তির ৫ডি ডেটা স্টোরেজ ডিস্ক তৈরি করেন।


University of Southampton, UK-এর Optoelectronics Research Centre (ORC)-এর গবেষকদের উদ্ভাবিত এই অভাবনীয় প্রযুক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন Professor Peter G. Kazansky। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন “5D Optical Data Storage” বা “Superman Memory Crystal”।


এটি মূলত একটি ৫ডি (5D) অপটিক্যাল ডেটা স্টোরেজ ডিস্ক টেকনোলজি, যা প্রায় ৭,০০০ ব্লু-রে ডিস্কের সমান অর্থাৎ প্রায় ৩৬০ টেরাবাইট ডেটা ধারণ করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের এই ডেটা স্টোরেজ অপটিক্যাল ডিস্কে সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত অবিকৃতভাবে আনুমানিক মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে টিকে থাকতে পারে।


বর্তমানে ল্যাবে পরীক্ষামূলকভাবে femtosecond laser nanostructuring প্রক্রিয়ায় কোয়ার্টজ গ্লাসের ডিস্কে ডেটা সংরক্ষণ করে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকেরা। যদিও বিষয়টি এখনও অনেকটাই গবেষণামূলক পর্যায়ের প্রাথমিক ধারণা বা প্রেডিকশনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।


বিজ্ঞানীদের নতুন উদ্ভাবিত ৫ডি (5D) অপটিক্যাল ডেটা স্টোরেজ ডিস্ক টেকনোলজি প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে হাজার হাজার বছর টিকে থাকতে পারবে। বর্তমানে প্রচলিত ডিজিটাল হার্ড ড্রাইভ বা অপটিক্যাল ডিস্কের পক্ষে যা এক কথায় অসম্ভব। তাই এই প্রযুক্তি দীর্ঘস্থায়ী ডেটা স্টোরেজ টেকনোলজিতে এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।


যদিও এই ৫ডি অপটিক্যাল ডেটা স্টোরেজ টেকনোলজি এখনও পর্যন্ত গবেষণা ও উন্নয়নের প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, তবুও ভবিষ্যতে এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হলে দীর্ঘস্থায়ী ডেটা স্টোরেজ প্রযুক্তিতে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।


তাছাড়া জাপানের হিটাচি কোম্পানি ২০১২ সাল থেকেই ফিউজড সিলিকা ডেটা স্টোরেজ টেকনোলজি নিয়ে নিবিড়ভাবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তা এখনও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী বা সহজলভ্য করা সম্ভব হয়নি।


পরিশেষে বলা যায়, এই দীর্ঘস্থায়ী ডেটা সংরক্ষণের ৫ডি অপটিক্যাল স্টোরেজ প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিজিটাল সভ্যতার এক নতুন ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। আজ এটি গবেষণাগারের দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও, অদূর ভবিষ্যতে হয়তো মানবজাতির তথ্য ও জ্ঞান সংরক্ষণের স্থায়ী ভাণ্ডার হয়ে উঠবে। তবে তার জন্য আমাদের হয়তো আরও কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হতে পারে।


তথ্যসূত্র: University of Southampton (2016), SPIE Digital Library, Hitachi Global Research.


লেখক পরিচিতি:
সিরাজুর রহমান,
শিক্ষক ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি লেখক,
সিংড়া, নাটোর,
বাংলাদেশ।

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাপানো পবিত্র কুরআন মাজীদ!

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর কৌশলগত ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পরমাণু অস্ত্র মজুতের একটি বাস্তবচিত্র!

বিশ্বের প্রথম সফল বাণিজ্যিক পার্সোনাল কম্পিউটার