আধুনিকায়নের পথে রাশিয়ার টু-১৬০ হেভি স্ট্র্যাটেজিক বোম্বার ফ্লিট



রাশিয়ার বিমান বাহিনীর (অ্যারোস্পেস ফোর্স) বর্তমান টু-১৬০ হেভি স্ট্র্যাটেজিক বোম্বার ফ্লিটে প্রায় ১৫-১৮টি বিমান কর্মক্ষম (অপারেশনাল) রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি টু-১৬০ মেরামত ও আধুনিকীকরণের অধীনে রয়েছে এবং আরও ২টি টু-১৬০এম নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে।

 

তবে রাশিয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১০টি এবং ২০৫০ সালের মধ্যে মোট ৪০-৫০টি নতুন টু-১৬০এম২ সুপারসনিক বোমারু বিমান বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এর ন্যাটো কোডনেম হল ব্ল্যাকজ্যাক।

 

এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে রাশিয়ার কাজান এভিয়েশন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিটি টু-১৬০এম/এম২ বিমানের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলার। নিউজউইক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই নাগাদ ২টি টু-১৬০এম এবং ২টি টু-১৬০এম২ বিমান সার্ভিসে (কমিশন) যুক্ত হয়েছে।

 

প্রায় ৪৫ টন পে-লোড বহনে সক্ষম এই হেভি স্ট্র্যাটেজিক বোম্বারটির ফেরি রেঞ্জ ১২,৩০০ কিলোমিটার এবং কমব্যাট রেঞ্জ প্রায় ৭,৩০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি এর সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ২.৫ (প্রায় ৩,০৬০ কিমি/ঘণ্টা) এবং সার্ভিস সিলিং প্রায় ৫২,০০০ ফুট। তবে সুপারসনিক গতিতে এই রেঞ্জ প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে।

 

টু-১৬০ হেভি স্ট্র্যাটেজিক বোম্বারের নতুন সংস্করণগুলোতে রয়েছে উন্নত রাডার, অত্যাধুনিক নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া, এটিকে বিশেষ করে স্মার্ট নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড-সক্ষম ক্রুজ মিসাইল বহনের উপযোগী করে ডিজাইন ও তৈরি করা হচ্ছে।

 

এই বোমারু বিমানের মূল অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে ২,৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের Kh-55 এয়ার-লঞ্চ ক্রুজ মিসাইল এবং ৩,০০০-৩,২০০ কিলোমিটার রেঞ্জের Kh-15 অ্যারো-ব্যালিস্টিক এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল। এর পাশাপাশি এটিকে বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্র ব্যবস্থা দ্বারা সজ্জিত করা হচ্ছে।

 

টু-১৬০ বোম্বার বিমানের আধুনিক সিরিজে বর্তমানে পুরোনো ইঞ্জিনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ৪টি NK-৩২ (সিরিজ-২) আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, যা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আফটারবার্নার জেট ইঞ্জিন হিসেবে বিবেচিত। এই ইঞ্জিনই বিমানকে দীর্ঘপাল্লার মিশনে সুপারসনিক গতি ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

 

পরিশেষে বলা যায়, সুপারসনিক গতি, দীর্ঘ পাল্লা, উন্নত নিউক্লিয়ার স্ট্রাইক ক্ষমতা ও অত্যাধুনিক অ্যাভিওনিক্সে সজ্জিত Tu-160M/M2 বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী স্ট্র্যাটেজিক এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটিকে এখন রাশিয়ার নিউক্লিয়ার ট্রায়াডের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, আরটি, নিউজউইক, টাস (TASS)

 

লেখক:

সিরাজুর রহমান

শিক্ষক ও লেখক (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক), বাংলাদেশ




Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাপানো পবিত্র কুরআন মাজীদ!

প্রাণের খোঁজে শনির চাঁদ টাইটানে নাসার এক বৈপ্লবিক “ড্রাগনফ্লাই” স্পেস মিশন!

শিল্প উৎপাদনে রোবটিক্স প্রযুক্তি স্থাপনে নজির গড়েছে রেড জায়ান্ট চীন!