গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬: বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য ও টেকসই শহরের র্যাংকিং
চলতি বছরের ৭ জুলাই যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান The Economist Intelligence Unit (EIU) তাদের বহুল আলোচিত Global Liveability Index 2026 প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের জীবনযাত্রার মান ও বসবাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত র্যাংকিং প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও স্থিতিশীলতা (Stability), স্বাস্থ্যসেবা (Healthcare), শিক্ষা (Education), অবকাঠামো (Infrastructure), এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশ (Culture & Environment)- এই পাঁচটি প্রধান সূচকে প্রতিটি শহরকে ১০০ নম্বরের স্কেলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর এসব সূচকের গড় স্কোরের ভিত্তিতে এই চূড়ান্ত র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে।
Global Liveability Index 2026 অনুযায়ী, ৯৮.০ স্কোর অর্জন করে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহরের শীর্ষস্থান দখল করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা (৯৭.১), তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন (৯৭.০), চতুর্থ স্থানে সিডনি (৯৬.৬) এবং পঞ্চম স্থানে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ (৯৬.৫) রয়েছে।
এছাড়া জেনেভা (সুইজারল্যান্ড), ওসাকা (জাপান), অ্যাডিলেড (অস্ট্রেলিয়া), ভ্যাঙ্কুভার (কানাডা) এবং টোকিও (জাপান)-ও বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬-এ এশিয়ার শহরগুলোর উল্লেখযোগ্য এবং ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বের সেরা ২০টি শহরের মধ্যে ৯টিই এশিয়ায় অবস্থিত, যা অঞ্চলটির স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক অবকাঠামো এবং নগর ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সিরিয়ার রাজধানী দামাস্ক মাত্র ৩২.০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কম বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে ১৭৩তম স্থানে রয়েছে। এছাড়া, কম বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি ১৭২তম স্থানে এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে ১৭১তম স্থানে, যার স্কোর ৪২.০।
মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি আবারও সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহরের অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে চলমান সংঘাত এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (MENA) অঞ্চলের অনেক শহরের স্থিতিশীলতা (Stability) স্কোর এবং সামগ্রিক র্যাংকিং আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।
EIU-এর প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে অপরাধের হার হ্রাস পাওয়ায় এর স্থিতিশীলতা সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের বিভিন্ন শহরে অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে সেগুলোর র্যাংকিংও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলোর মধ্যে দিল্লি রয়েছে ১২০তম, মুম্বাই ১২১তম, চেন্নাই ১২৩তম এবং বেঙ্গালুরু ১২৭তম স্থানে। এছাড়া করাচি রয়েছে ১৭০তম এবং ঢাকা ১৭১তম স্থানে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, Global Liveability Index 2026-এ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো শহরই বিশ্বের সেরা ১০০টি বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় স্থান পায়নি। বিশেষ করে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, দীর্ঘস্থায়ী যানজট, তীব্র বায়ুদূষণ, নগর পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা এবং জনস্বাস্থ্য অবকাঠামোর দুর্বলতার কারণে এ অঞ্চলের বড় শহরগুলোর বসবাসযোগ্যতার র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: The Economist Intelligence Unit (EIU), Global Liveability Index 2026
লেখক: সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক, বাংলাদেশ।

Comments
Post a Comment