নির্বিচারে বনাঞ্চল ধ্বংস: মানব সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য এক সতর্কবার্তা!

 


বর্তমানে পৃথিবীর মোট ভূমির আনুমানিক প্রায় ৩০% হচ্ছে বনভূমি। আর সে হিসেবে সারা পৃথিবীর মোট বনভূমির আয়তন হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি ৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। যা এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর প্রাণের স্পন্দন টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।


তবে পরিবেশ নিয়ে গবেষণারত বিজ্ঞানীরা আশাঙ্খা করেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে হারে মানুষ বনভূমি ধ্বংস করে যাচ্ছে তাতে আগামী অর্ধ শতাব্দির মধ্যেই ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দূর্যোগের পাশাপাশি প্রানী ও উদ্ভিদ জগতের একটি বড় অংশ হয়তো চিরতরে বিলুপ্তি হয়ে যেতে পারে।


গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের দেয়া তথ্যমতে, গত ২০২২ সালে সারা পৃথিবীতে মোট প্রায় ৪১ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার সমান চিরহরিৎ বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে। আর এই ভয়াবহ বনভূমি ধ্বংসের ৪৩% ব্রাজিল, ১৩% কঙ্গো এবং ৯% বলিভিয়ায় করা হয়েছে।


তার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ চিরহরিৎ বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে। গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের মতে, এই ভয়াবহ বনভূমি ধ্বংসের জন্য প্রায় ২৭০ কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রীন হাউস গ্যাস সরাসরি বায়ুমন্ডলে চলে গেছে।


যদিও গত ২০২১ সালে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার সমান চিরহরিৎ বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছিল। এই বনভূমি ধ্বংসের সাথে সাথে হাজারো প্রজাতির প্রানী ও উদ্ভিদ এখন মানুষের ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপের ফলে বিলুপ্তির একেবারেই দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে।


বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আ্যামজন রেইন ফরেস্টের আয়তন প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। এখানে হাজারো প্রজাতির প্রাণী বসবাসের পাশাপাশি আনুমানিক ৩৩০ বিলিয়ন উদ্ভিদ রয়েছে। এছাড়া মনে করা হয়, এই মহাবনে সঞ্চিত রয়েছে প্রায় ২২০-২৫০ গিগাটন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রিনহাইজ গ্যাস।


তবে আশঙ্কার তথ্য হচ্ছে বর্তমানে প্রতি বছর গড়ে হয়তো আনুমানিক এক লক্ষ বর্গকিলোমিটারের কাছাকাছি আয়তনের বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে৷ তার সাথে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শতাধিক প্রাণী ও উদ্ভিদের অজানা প্রজাতি। এছাড়া, শিল্পায়ন ও আধুনিক কৃষি ফার্মের জন্য আগামী ২১০০ সালের এই মহাবন আ্যমাজন তার প্রায় ৭০%-৮০% আয়তন হারাতে পারে বলে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এক দশক আগেই সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন।


এদিকে নেচার জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে অনুমানিক প্রায় ৩.০৪ ট্রিলিয়ন বৃক্ষ রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে তা কিন্তু প্রাচীনকালে প্রায় ৬ ট্রিলিয়নের অধিক ছিল। এ থেকে বোঝা যায় যে, বর্তমানে প্রাণী জগত ঠিক কতটা ভয়াবহ পর্যায়ে রয়েছে।


পরিশেষে বলা যায়, বৈশ্বিক জীব বৈচিত্র্য এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে, নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংসের গতি যদি এখনই কমানো না যায়, তবে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এবং জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি একসাথে মানব সভ্যতার জন্য ভয়ঙ্কর সংকট তৈরি করবে। যাকে পৃথিবীর বুকে চলমান ষষ্ঠ গণ প্রাণের বিলুপ্তির প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে দেখা হয়।


(ইন্টারনেটে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য উন্মুক্ত উৎস থেকে তথ্য সংগৃহীত)


লেখক পরিচিতি:
সিরাজু রহমান, শিক্ষক ও লেখক, বাংলাদেশ।

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাপানো পবিত্র কুরআন মাজীদ!

প্রাণের খোঁজে শনির চাঁদ টাইটানে নাসার এক বৈপ্লবিক “ড্রাগনফ্লাই” স্পেস মিশন!

শিল্প উৎপাদনে রোবটিক্স প্রযুক্তি স্থাপনে নজির গড়েছে রেড জায়ান্ট চীন!