JF-17 Thunder (Block-3): প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাস্তবতা!

 


বর্তমানে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রজেক্টে তৈরি JF-17 Thunder (Block-3) লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট একটি কার্যকর মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিশেষ করে স্বল্প মূল্যের যুদ্ধবিমান হলেও ফুল ওয়েপন্স, লজিস্টিক অ্যান্ড ট্রেনিং প্যাকেজসহ এর পার ইউনিট কস্ট হতে পারে প্রায় ৮০-১০০ মিলিয়ন ডলার।

 

 

এই লাইট ওয়েট যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয় এবং এটি সর্ব প্রথম সার্ভিসে আসে ২০০৭ সালে। এর সর্বশেষ এবং আধুনিক মডেল হচ্ছে ব্লক-৩। তবে, পাকিস্তান এই প্রজেক্টের অন্যতম অংশীদার হলেও বাস্তবে এই যুদ্ধবিমানের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি ও সাবসিস্টেম চীন কিংবা অন্য কোনো দেশের তৈরি।

 

 

আসলে, ব্লক-৩ সংস্করণে এই যুদ্ধবিমানে অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম হিসেবে চীনের তৈরি KLJ-7A অ্যাক্টিভ ইলেক্ট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার ব্যবহার করা হয়েছে, যা একসঙ্গে একাধিক টার্গেট শনাক্ত করতে সক্ষম। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক দুর্ঘটনায় এখনো পর্যন্ত হয়তো প্রায় ৭-৮টি JF-17 বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

 

এতে উন্নত ককপিট ও অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম হিসেবে হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে (HMD) ও ডিজিটাল গ্লাস ককপিট ইনস্টল করা হয়েছে, যা এয়ার কমব্যাট মিশনে পাইলটের সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বহুগুণ বাড়িয়ের দেয়। এছাড়া, এর এয়ার কমব্যাট ক্যাপাবিলিটি বৃদ্ধির লক্ষ্যে তুরস্কের কাছ থেকে ASELPOD ইলেক্ট্রোঅপটিক্যাল টার্গেটিং পড ইনস্টল করা হবে।

 

 

বর্তমানে জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩ সিরিজের যুদ্ধবিমানে রাশিয়ার তৈরি একটি Klimov RD-93MA আফটারবার্নিং (91.2KN) টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ব্যবহার হচ্ছে। তবে, অদূর ভবিষ্যতে এর পরিবর্তে চীনের WS-13 অথবা পাকিস্তান-তুরস্কের যৌথ প্রকল্পের জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হতে পারে।

 

 

উইকিপিডিয়ার দেয়া তথ্যমতে, একজন পাইলট দ্বারা চালিত JF-17 Thunder (Block-3) লাইট যুদ্ধবিমানের কমব্যাট রেঞ্জ প্রায় ৯০০ কিলোমিটার এবং ড্রোপ ফুয়েল ট্যাঙ্ক ব্যবহারে এর ম্যাক্সিমাম কমব্যাট হতে পারে প্রায় ১,৭৪১ কিলোমিটার। এর ম্যাক্সিমাম স্পিড ১.৮ ম্যাক এবং সার্ভিস সিলিং ৫৫,৫০০ ফিট।  

 

 

এই যুদ্ধবিমানের সাতটি হার্ড পয়েন্টে প্রায় ৩,৬৫০ কেজি পর্যন্ত মিসাইল ও অন্যান্য অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এর প্রধান এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল হিসেবে রয়েছে দূরপাল্লার PL-15E (১৪৫ বা তার অধিক কিমি রেঞ্জ) BVR মিসাইল এবং মাঝারি পাল্লার PL-12 মিসাইল। এর প্রতি ঘণ্টা অপারেটিং কস্ট হতে পারে গড়ে প্রায় ৫-৬ হাজার ডলার।

 

 

এটি CM-400AKG অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের পাশাপাশি পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি 'রাদ' (Hatf-VIII Ra’ad) ক্রুজ মিসাইল ও বিভিন্ন ধরণের লেজার-গাইডেড ও আন-গাইডেড মিউনিশন বহন করতে পারে। একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান বেশকিছু সংখ্যক যুদ্ধবিমান সৌদি আরবে মোতায়েন করেছে।

 

 

পরিশেষে বলা যায়, পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এটি ডিজাইন ও তৈরি করা হলেও চীন তার নিজস্ব বিমানবাহিনীতে এই যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করেনি। এটি মূলত পাকিস্তান ও অন্যান্য মিত্র দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে রাখতে চায় চীন।

 

 

তথ্যসূত্র: Wikipedia, Aero Times, Al-Jazeera

 

 

লেখক পরিচিতি:

সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক, বাংলাদেশ।

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাপানো পবিত্র কুরআন মাজীদ!

প্রাণের খোঁজে শনির চাঁদ টাইটানে নাসার এক বৈপ্লবিক “ড্রাগনফ্লাই” স্পেস মিশন!

ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তায় মোবাইল নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের বিপ্লব!