ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ফুটবল এখন বাস্তবে!

 




আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ আসরে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক নতুন প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে এবারের আসরে সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ স্মার্ট ম্যাচ বল ব্যবহারের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।


ফুটবল প্রযুক্তির এই নতুন সংযোজন ভবিষ্যতের খেলায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও গত ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপেও সেন্সর যুক্ত ফুটবল ব্যবহার করা হয়।


Adidas-এর উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন ম্যাচ বলে জার্মান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Kinexon-এর connected ball sensor technology ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে খেলা চলাকালীন বলটি একটি লাইভ ডেটা ডিভাইস হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হবে।


বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল উৎপাদন কেন্দ্র পাকিস্তানের শিয়ালকোটে Adidas-এর বিভিন্ন ম্যাচ বল তৈরি করা হলেও, এর ভেতরে ব্যবহৃত সেন্সর ও ডেটা ট্র্যাকিং প্রযুক্তির উন্নয়ন করেছে জার্মান প্রতিষ্ঠান Kinexon।


বলটির ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর দ্রুতগতির ও জটিল মুহূর্তে বলের স্পর্শ আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে বা দ্রুত গতির খেলায় ক্যামেরা ছোটখাটো স্পর্শ, ডিফ্লেকশন কিংবা বলের দিক পরিবর্তনের মুহূর্ত পুরোপুরি ধরতে পারে না।


স্মার্ট প্রযুক্তির এই বল সেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, এই বলের ডেটা FIFA-এর Semi-Automated Offside Technology-এর সাথেও সমন্বিতভাবে কাজ করবে।


বলের গতি, খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ একত্র করে VAR কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত সতর্ক সংকেত পাঠানো সম্ভব হবে, বিশেষ করে খুব কাছাকাছি অফসাইড সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে।


তবে, এই প্রযুক্তিকে রেফারিদের বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং এটি রেফারিদের আরও নির্ভুল ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে, যখন খেলার গতি মানুষের চোখের সীমাকে অতিক্রম করে যায়।


পরিশেষে বলা যায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু ফুটবল নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়াতেও আরও বিস্তৃত হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ এবং সেন্সর প্রযুক্তির সমন্বয় খেলাধুলাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলছে।


(ইন্টারনেটে প্রাপ্ত উন্মুক্ত তথ্যসূত্র থেকে সংগৃহীত)


লেখক: সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও লেখক, বাংলাদেশ।

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাপানো পবিত্র কুরআন মাজীদ!

প্রাণের খোঁজে শনির চাঁদ টাইটানে নাসার এক বৈপ্লবিক “ড্রাগনফ্লাই” স্পেস মিশন!

ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তায় মোবাইল নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের বিপ্লব!