বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের পথে নতুন যাত্রা!

 


লেখক: সিরাজুর রহমান

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সক্ষমতা অর্জনে বেশকিছু ইতিবাচক ও টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যার মধ্যে অতি সম্প্রতি চীনের তৈরি ২০টি ডেডিকেটেড জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনার বিষয়টি দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাত আধুনিকায়নে একটি ইতিবাচক ও সাবলীল পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


আসলে বিগত দুই দশকে আমাদের দেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন বলতে আসলে তেমন কিছুই হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে প্রায় ২২০টি সক্রিয় যুদ্ধবিমান রয়েছে, যার মধ্যে কমব্যাট এয়ারক্রাফট (বহুমুখী যুদ্ধবিমান), সামরিক পরিবহন বিমান এবং ইউটিলিটি হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত।


উইকিপিডিয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তথ্যসূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (BAF) বর্তমানে সক্রিয় ও অপারেশনাল কমব্যাট এয়ারক্রাফটের (যুদ্ধবিমান) মোট সংখ্যা ৪৪টি। তবে আন্তর্জাতিক কিছু সামরিক ডেটাবেজ (যেমন: GlobalMilitary) হালকা যুদ্ধোপযোগী ও জেট ট্রেইনারসহ এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ৭৯টি পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।


Global Military ওয়েবসাইটে দেয়া ২০ আগস্ট, ২০২৬ সালের আপডেট তথ্যমতে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে বর্তমানে ৭৯টি কমব্যাট এয়ারক্রাফট, ২১টি সামরিক পরিবহন বিমান, বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৭৫টি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার, ৩৯টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ৬টি ডেডিকেটেড কমব্যাট ড্রোন (ইউসিএভি) অপারেশনাল রয়েছে।


তবে বর্তমানে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতের বিমান বাহিনীর কমব্যাট এয়ারক্রাফটের সংখ্যা এশিয়ায় অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। বর্তমানে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স এবং নেভাল এভিয়েশন মিলিয়ে মোট ১,৮১৪টি কমব্যাট (সক্রিয়) এয়ারক্রাফট রয়েছে, যার মধ্যে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জে-২০ অন্যতম।


অন্যদিকে, ভারতীয় বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর বহরে বর্তমানে সক্রিয় কমব্যাট এয়ারক্রাফটের মোট সংখ্যা হতে পারে প্রায় ৬০০টি, যার মূল শক্তি হিসেবে সুখয়-৩০ এমকেআই ২৫৮টি, রাফাল ৩৬টি এবং দেশীয় প্রযুক্তির তেজস ফাইটার জেট রয়েছে প্রায় ৩০-৩৫টি।

এছাড়া, পাকিস্তানের বিমান বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৪২১টি কমব্যাট এয়ারক্রাফট অপারেশনাল রয়েছে, যার বড় অংশ জুড়ে আছে নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার, এফ-১৬ এবং নতুন যুক্ত হওয়া জে-১০সিই ফাইটার জেট। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের বিমান বাহিনীতে বর্তমানে মোট প্রায় ১৩২টি সক্রিয় কমব্যাট এয়ারক্রাফট রয়েছে।


এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এয়ার কমব্যাট ফ্লিট যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। তাই, সার্বিক বিবেচনায় আমাদের সরকারের ৪.৫-জেনারেশনের চীনের তৈরি সিঙ্গেল ইঞ্জিনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রাথমিক উদ্যোগ অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত।


কারণ বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কেবল বিমানের সংখ্যাই নয়, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর AESA রাডার সজ্জিত এই জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের এয়ার-টু-এয়ার ও এয়ার-টু-গ্রাউন্ড উভয় ধরনের কমব্যাট অপারেশনেই সক্ষমতা রয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবে।


(ইন্টারনেটে প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উন্মুক্ত উৎস থেকে তথ্য সংগৃহীত)


লেখক: সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক, বাংলাদেশ।

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাপানো পবিত্র কুরআন মাজীদ!

প্রাণের খোঁজে শনির চাঁদ টাইটানে নাসার এক বৈপ্লবিক “ড্রাগনফ্লাই” স্পেস মিশন!

শিল্প উৎপাদনে রোবটিক্স প্রযুক্তি স্থাপনে নজির গড়েছে রেড জায়ান্ট চীন!