মরক্কো দক্ষিণ কোরিয়ার কে-২ ব্ল্যাক প্যান্থার মেইন ব্যাটল ট্যাংক ক্রয়ে আগ্রহী!
দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি কে-২ ব্ল্যাক প্যান্থার মেইন ব্যাটল ট্যাংকের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রেতা দেশ হলো পোল্যান্ড, যারা বর্তমানে ১৮০টি ট্যাংক ব্যবহার করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনী নিজস্ব ব্যবহারের জন্য প্রায় ২৬০টি ট্যাংক ব্যবহার করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রটেম কর্পোরেশন গত ২০০৫ সালে এই ট্যাংকের নকশা প্রণয়ন করে এবং ২০০৮ সালে এর প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়। তাছাড়া একই প্রযুক্তিগত সহায়তায় তুরস্ক বর্তমানে ‘আলতাই’ মেইন ব্যাটল ট্যাংকের গণ উৎপাদন শুরু করেছে।
বর্তমানে কে-২ ব্ল্যাক প্যান্থারকে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ট্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ইউনিটের আনুমানিক মূল্য ৮.৫ থেকে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। যদিও পোল্যান্ডের দ্বিতীয় ব্যাচের ১৮০টি ট্যাংকের চুক্তিমূল্য প্রায় ৬.১ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়, যেখানে অস্ত্র প্যাকেজ, প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক সাপোর্ট ও রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৫৫–৫৬ টন ওজনের এই ট্যাংকে ১,৫০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার এবং অপারেশনাল রেঞ্জ প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। তিনজন ক্রু দ্বারা পরিচালিত এই ট্যাংকে মেইন গান হিসেবে ১২০ মিমি স্মুথবোর ক্যানন (৪০ রাউন্ড) দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ১২.৭ মিমি হেভি মেশিনগান ও ৭.৬২ মিমি লাইট মেশিনগান।
সুরক্ষার জন্য এতে উন্নতমানের আর্মার স্টিল, সিরামিক প্লেট এবং ERA/NERA ভিত্তিক মডিউলার প্রটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উচ্চ গতিশীলতা নিশ্চিত করতে হাইড্রো-পনিউম্যাটিক ইন-আর্ম সাসপেনশন (ISU) এবং ডায়নামিক ট্র্যাক টেনশন সিস্টেম (DTTS) সংযোজন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার আরমাটা টি-১৪ এবং জাপানের টাইপ-১০ চতুর্থ প্রজন্মের ট্যাংকের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার কে-২ ব্ল্যাক প্যান্থার বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও ব্যয়বহুল মেইন ব্যাটল ট্যাংক হিসেবে দ্রুত নিজের অবস্থান শক্ত করছে। মরক্কো যদি এই ক্রয় সম্পন্ন করে, তবে আফ্রিকার প্রতিরক্ষা ভারসাম্যে নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
(তথ্য ও ছবি সংগৃহীত)
লেখক পরিচিতি:
সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও লেখক
সিংড়া, নাটোর,
বাংলাদেশ।

Comments
Post a Comment