বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে সৌদি আরব!
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ‘মিডল ইস্ট আই’ নিউজের দেওয়া আপডেট তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫.৭৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতেও এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, নতুন এই অস্ত্র রপ্তানি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বোয়িং কর্পোরেশনের তৈরি Joint Direct Attack Munition-Extended Range (JDAM-ER) সরবরাহ করা হবে।
এর পাশাপাশি প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের হানিওয়েল AGT-1500 ইঞ্জিন বিক্রিরও অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। Statbase-এর Arms Import Data অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সৌদি আরবের অস্ত্র আমদানির পরিমাণ ছিল ৩,০৪২ মিলিয়ন TIV (Trend Indicator Values)। TIV হলো আন্তর্জাতিক অস্ত্র হস্তান্তরের পরিমাণ পরিমাপের একটি সূচক, যা সরাসরি আর্থিক মূল্য নির্দেশ করে না।
এদিকে, গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সৌদি আরবের সামরিক বাজেট প্রায় ৬৩.৯৯৮ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে দেশটির অন্যান্য নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থার ব্যয়সহ মোট সামরিক ও প্রতিরক্ষা ব্যয় হতে প্রায় ৭৮-৮৩ বিলিয়ন ডলার।
সৌদি আরব বর্তমানে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পাশাপাশি উন্নত সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও দেশটির অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী ( প্রায়৭৪%)। দেশটি বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধবিমান, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য উন্নত সামরিক প্রযুক্তি আমদানি করে থাকে।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী Vision 2030 পরিকল্পনায় স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটি বড় অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
এর মাধ্যমে অস্ত্র আমদানি নির্ভরতার হ্রাস করতে স্থানীয় প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষ জনবল ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যার আলোকে তুরস্কের মতো প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশগুলোর সাথে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নিজ দেশেই কমব্যাট ড্রোন অন্যান্য ডিফেন্স সিস্টেম ম্যানুফ্যাকচারিং বা এসেম্বলি করতে চায়।
পরিশেষে বলা যায়, ভিশন ২০৩০-এর আলোকে সৌদি আরব এখন শুধু আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে না, বরং একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, গবেষণা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। এই নীতি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প হয়ত আরও শক্তিশালী হবে।
(ইন্টারনেটে প্রাপ্ত উন্মুক্ত উৎস থেকে তথ্য সংগৃহীত)
তথ্যসংগ্রহকারী: সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক, বাংলাদেশ।

Comments
Post a Comment