রাশিয়ার কুরস্কের আকাশে দুই এসইউ-৩৫এস যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ
এই বিমান দূর্ঘটনায় এক বিমানে থাকা পাইলট জরুরি ইজেকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও তিনি গুরুতর আহত হন, এবং অপর বিমানের পাইলট ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। রাশিয়ার সামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক জনপ্রিয় টেলিগ্রাম চ্যানেল 'ফাইটারবোম্বার' এবং ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা মাধ্যমগুলোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার বিমান বাহিনীর জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা ছিল। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক উন্মুক্ত গোয়েন্দা সংস্থা ওরিক্স (Oryx)-এর ভিজ্যুয়াল প্রমাণভিত্তিক (Visual evidence) তালিকা অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার অন্তত ৮ থেকে ৯টি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
আর অতি সাম্প্রতিক কুরস্কের আকাশে এই দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষের ফলে রাশিয়ার অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও হাইলি ডেডিকেটেড এসইউ-৩৫এস মডেলের বিমান হারানোর মোট সংখ্যা এখন প্রায় ১১ থেকে ১২টিতে গিয়ে দাঁড়াল। তবে তা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মিডিয়া দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য এখনো যাচাই বা স্বীকার করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামরিক বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার বিমান বাহিনীর আনুমানিক ৩০০টিরও অধিক যুদ্ধবিমান, বোম্বার এয়ারক্রাফট, হেলিকপ্টার ও সামরিক পরিবহন বিমান ধ্বংস কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আর যুদ্ধকালীন রণকৌশল ও প্রচারণাগত কারণে এই সংখ্যার নিরপেক্ষ সূত্র বা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। তবে এই যুদ্ধে রাশিয়ার বিমান বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষতি বা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
(উন্মুক্ত ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র থেকে সংগৃহীত)
তথ্যসংগ্রহ ও সংকলন: সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক, বাংলাদেশ।

Comments
Post a Comment