সাবমেরিন প্রযুক্তিতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে ফ্রান্স!
সাগরের গভীরে পরিচালিত সাবমেরিন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা রাশিয়ার নাম বেশি আলোচিত হয়। তবে বাস্তবে ফ্রান্সও দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির সাবমেরিন নকশা ও নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বর্তমানে দেশটি একই সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিচালিত (Nuclear-Powered) এবং ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন তৈরির সক্ষমতা রাখে, যদিও ফরাসি নৌবাহিনী এখন আর কোনো প্রচলিত জ্বালানি নির্ভর ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন পরিচালনা করে না।
ফ্রান্সের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত ডিজেল-ইলেকট্রিক আক্রমণাত্মক সাবমেরিন আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর ফরাসি নৌবাহিনীর সাবমেরিন বহর বর্তমানে শতভাগ পারমাণবিক শক্তিচালিত আক্রমণাত্মক এবং কৌশলগত সাবমেরিন দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে।
ফ্রান্সের ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনগুলোর মধ্যে Scorpène-class সবচেয়ে আধুনিক ও সফল একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া দেশটি Agosta-90B শ্রেণির উন্নত সাবমেরিনও তৈরি করেছিল, যদিও এর উৎপাদন কার্যক্রম ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে ফরাসি নৌবাহিনী মোট নয়টি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন পরিচালনা করে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি নতুন প্রজন্মের Suffren-class এবং একটি Rubis-class আক্রমণাত্মক নিউক্লিয়ার পাওয়ারড সাবমেরিন (SSN)।
এর পাশাপাশি দেশটি চারটি Le Triomphant-class কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন (SSBN) পরিচালনা করে, যেগুলোর প্রতিটির সাবমার্জড ওজন প্রায় ১৪,৩৩৫ টন এবং এটি ফ্রান্সের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্রান্সের কাছে হয়তো প্রায় ২৫০-৩৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ M51 সিরিজের সাবমেরিন-উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (SLBM)-এর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে তাদের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কিত তথ্যের প্রকাশ সীমিত করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটি তার কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা এবং সাবমেরিন বহরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
তথ্যসূত্র: Reuters, Missile Threat, Wikipedia
ইমেজ: এআই জেনারেটেড
লেখক:
সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও লেখক
সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ।
.png)
Comments
Post a Comment